সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

"স্ট্রিট ফটোগ্রাফির প্রথম অভিজ্ঞতা!!”

 সেদিন ভোরে শহর যেন অন্যরকম ছিল। গলির মোড়ে চায়ের দোকান সবে খুলতে শুরু করেছিল, রাস্তায় গাড়ির শব্দ নেই বললেই চলে— শুধু হাওয়ায় ধুলো আর প্রথম রোদের উষ্ণতা। আর আমার হাতে ছিল ফোন, মনে ছিল একরাশ কৌতূহল। আজই প্রথম আমি বেরিয়েছি রাস্তায় ছবি তুলতে, হ্যাঁ মানে ওই স্ট্রিট ফটোগ্রাফি — অচেনা মানুষের ভিড়ে নিজের শহরকে নতুন করে দেখার জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় তো আর নেই!!

আমার লেন্সে ধরা কলকাতার রাস্তা”

ভিক্টোরিয়ার নীরব সকাল :-

>> শহরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্টোরিয়া যেন নিজের গল্প বলছিল। সকালের কুয়াশার ভেতর তাকে যেন লাগছিল আরও রহস্যময় । পায়ে পায়ে হেঁটে গিয়েছিলাম, আর বুঝতে পেরেছিলাম — এই স্থাপত্য শুধু ইট-পাথরের নয়, একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের স্মৃতি, ভালোবাসা আর ইতিহাসের সাক্ষী।

সাদা স্মৃতি”


সেন্ট পল’স-এর সকাল :-

>> রাস্তার বাঁকে হঠাৎই মাথা উঁচু করে থাকা সাদা চকচকে সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল চার্চ। সকালের আলোয় এর স্থাপত্য যেন আরও উজ্জ্বল। চার্চের চূড়া আর ঘণ্টা- ধ্বনির শব্দ আমার মনে এক অদ্ভুত শান্তি এনে দিল। ভিড়ের শহরের মাঝেও এই নীরবতা যেন ঈশ্বরের সাথে একান্ত কথোপকথনের জায়গা ।।

"শহরের হৃদয়ে শান্তির ঠিকানা!"

প্রযুক্তি ও প্রকৃতি :-

>> টাটা স্টিলের উঁচু বিল্ডিংটিকে দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল আকাশকে ছুঁয়ে যেতে সে তৎপর । তখনই হঠাৎ দেখলাম কতগুলি পাখি যেন মনের সুখে এই উঁচু বিল্ডিংটির মতনই উঁচু স্বপ্ন নিয়ে উড়ে চলেছে। তাই আমিও সময় নষ্ট না করে ঝটপট তুলে নিলাম এই ছবি । তাদেরও তো আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন।।



“আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন”


>> এই শহর শুধু রাস্তা, বিল্ডিং বা মানুষ নয়— এটি আমাদের স্মৃতি, আমাদের ভালোবাসা, আমার প্রথম ক্যামেরার চোখে দেখা শুরু।।

>> হ্যাঁ!! আমার নেই কোনও দামি ক্যামেরা। আমার হাতের ফোনটাই আমার চোখ, আমার লেন্স। হ্যাঁ আমি স্ট্রীট ফটোগ্রাফি করি আর আমি থাকি কলকাতায় তাই কলকাতার সব কিছুই আমার ফোটো তোলার সাবজেক্ট ।

যেদিন বুঝলাম স্মৃতিকে বন্দি করতে দামী যন্ত্র নয়, দরকার শুধু খোলা মন আর তীক্ষ্ণ চোখের — সেদিন থেকেই আমার ফোন হয়ে গেল আমার প্রথম ক্যামেরা।



মন্তব্যসমূহ

  1. Darun hoyache lekha ta sathe chobi gulo khub sundor 🫡❤️💞✨

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"ফ্রেমে বন্দি জীবনের লড়াই”

• ফটোগ্রাফি আমার কাছে শুধু একটা শখ নয়—এটা আমার দেখা, বোঝা আর অনুভব করার এক বিশেষ ভাষা। প্রতিটি ছবি যেন একটা সময়কে থামিয়ে দেয়, একটা মুহূর্তকে স্থির করে দেয় চিরদিনের জন্য। ফোনের ক্যামেরা দিয়ে তোলা আমার এই ছবিগুলোতে আমি চেষ্টা করেছি আমার চারপাশের সৌন্দর্য, গল্প, আর অনুভূতিগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। • শহরের ভিড়ের মাঝেও কিছু মুহূর্ত এমন থাকে, যেগুলো চোখ এড়িয়ে যায়, কিন্তু ক্যামেরার চোখে ধরা পড়লে তারা আলাদা গল্প বলে। এই ছবিগুলো আমি তুলেছি রাস্তায়, বাজারে, এবং জীবনের বিভিন্ন কোণে—যেখানে মানুষের মুখের ভাব , হাঁটার ভঙ্গি, বা এক ফোঁটা হাসির মধ্যেই লুকিয়ে আছে সময়ের প্রতিচ্ছবি। আমার কাছে ফটোগ্রাফি শুধুমাত্র ফ্রেমে বন্দী করা নয়, বরং মানুষের গল্পকে ধরে রাখা—যেন ছবির ভেতর দিয়ে তাদের অনুভূতি শোনা যায়। ছবি গুলি দেখুন – "সাজানো ফুল, সাজানো আশা” >> সকালবেলার বাজারে এক কোণে বসে আছেন এক ফুল বিক্রেতা। যত্ন করে সাজাচ্ছেন রঙিন ফুলের মালা—হয়তো কোনো মন্দিরের পূজোর জন্য, হয়তো কোনো মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে ভালোবাসার বার্তা হয়ে। এই ফুলের প্রতিটি পাপড়িতে আছে তার পরিশ্রমের...

"হলুদ ট্যাক্সির গল্প"

 কলকাতা মানেই নানা রঙের কোলাহল, ইতিহাসের ছোঁয়া, আর এর মধ্যেই শহরের রাস্তায় ছুটে চলা হলুদ ট্যাক্সি যেন এক চলমান স্মৃতি। ওলা-উবেরের যুগে যখন আধুনিকতার ঢেউ ক্রমশ গ্রাস করছে দুনিয়াকে, তখনও এই হলুদ গাড়িগুলো বয়ে বেড়াচ্ছে এক পুরোনো দিনের গন্ধ—যেখানে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে হাত তুলে ‘ট্যাক্সি!’ ডাকলেই মিলত গন্তব্যের সঙ্গী। একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে আমার চোখে, এই ট্যাক্সি শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং শহরের পরিচয়ের অংশ, একরাশ নস্টালজিয়ার রঙ। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ "ভিক্টোরিয়ার বুকে এক টুকরো হলুদ" >> সকালের আলো তখন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সাদা মার্বেল গায়ে মেখে এক ধরনের নরম আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে, তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক চেনা পুরনো সঙ্গী— হলুদ ট্যাক্সি । রঙটা যেন সময়ের স্রোতেও বদলায়নি; যেমন কলকাতার হৃদয়ে এখনও রয়েছে সেই উজ্জ্বল হলুদ ।।  এই এক ফ্রেমে ধরা পড়েছে সময়ের রূপান্তর—ভিক্টোরিয়ার চিরস্থায়ী সাদা আর হলুদের ক্ষণস্থায়ী উপস্থিতি। হয়তো কয়েক বছর পর, এই দৃশ্য শুধু ছবিতেই বেঁচে থাকবে।। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ ...

" ফ্রেমের ভেতর মাতৃমূর্তির আবির্ভাব " 🙏❤️

শরৎ-এর হাওয়া যখন গাছের পাতায় সোনালি আলো মাখিয়ে দেয়, তখনই বাংলার প্রতিটি অলিতে-গলিতে শুরু হয় এক ভিন্ন উত্তেজনা—দুর্গাপুজোর অপেক্ষা। মাটির গন্ধ, বাঁশের কাঠামো, রঙের ছোঁয়া আর মানুষের ভিড়—সব মিলিয়ে যেন বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবকে সাজিয়ে তোলে নতুন করে।আমার লেন্স সেই গল্পকেই ধরে রাখার চেষ্টা করেছে, মাটির গন্ধ থেকে প্যান্ডেলের আলো পর্যন্ত। ফটোগ্রাফির জগৎ এ কিছু মুহূর্ত এমন থাকে, যা কেবল একটুখানি ফ্রেমে বন্দি হলেও হাজারো আবেগকে জাগিয়ে তোলে। দুর্গাপুজোর ক্যানভাসও তেমনই—যেখানে আলো, ছায়া আর কাদামাটির স্পর্শ মিলেমিশে এক অপূর্ব কাহিনি রচনা হয় ।। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~`~~~~~~~~~~~~~~ “ প্রস্তুতির নীরবতা, পূর্ণতার প্রতীক্ষা” >>> এখানে দেখা যাচ্ছে কারিগরের অবিরাম পরিশ্রম।  প্রতিমাকে তিনি যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে তুলছেন। আলোয় ঢাকা তার মুখে ফুটে উঠেছে একাগ্রতা, আর তার আঙুলের স্পর্শে প্রাণ পাচ্ছে দেবীর প্রতিমা। ক্যামেরার চোখে এটি কেবল এক মুহূর্ত নয়—এটি শিল্প, শ্রম আর ভক্তির নিখাদ প্রতিচ্ছবি। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ “ মাটির গায়ে আসন্ন শক্ত...